শিরোনাম:

মেহেরপুরে জালটাকা ছড়াচ্ছে

মেহেরপুরে জালটাকা ছড়াচ্ছে
image_pdfimage_print

 

স্টাফ রিপোর্টার: মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার সাহারবাটি গ্রামের সার ব্যবসায়ি গত মঙ্গলবার সারাদিন বেচা কেনা করার পর দিন শেষে টাকা গুনে বান্ডিল করার সময় দেখতে পান একহাজার টাকার দুইটা জালনোট। তিনি মনে করতে পানেননি কে তাকে জালটাকা দিয়ে গেছে। এই রকম মেহেরপুর জেলা জুড়ে ৫০০ ও ১ হাজার টাকার জালনোট ঘুরে বেড়াচ্ছে।

জেলা শহরের বস্ত্র নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যবসায়ি বলেন, বেশকিছুদিন যাবত ক্রেতারা জালনোট নিয়ে দোকানে কিনতে আসছেন। তবে প্রথম প্রথম তিনিও চিনতে পারেননি। পরবর্তিতে তিনি খুব সাবধানতা অবলম্বন করে টাকা নেন। এমনকি যারা জালনোট নিয়ে দোকানে আসছেন তারা বুঝতে পারছেন না যে নোটগুলো জাল।

জেলা শহরের একটি বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, প্রতিদিন ব্যাংকে জালনোট নিয়ে আসছেন গ্রাহকেরা। এত সুক্ষভাবে তৈরি হচ্ছে জালনোট যে কারো পক্ষেই চেনা সম্ভব হচ্ছে না। তবে তারা ভালো করে নোট দেখে নিচ্ছেন।

গাংনী উপজেলার গাড়াবাড়ীয়া গ্রামের কয়েকজন গ্রামবাশী বলেন, কয়েকদিন আগে মেহেরপুর গরুর হাটে তিনি একটি ৮০ হাজার টাকা দিয়ে গরু বিক্রি করেন। ওই ৮০ হাজার টাকার মধ্যে ১ হাজার টাকার দুইটা নোট জাল ছিল যা তিনি একটি দোকানে কিছু কিনতে গেলে ওই দোকানি তাকে দেখিয়ে দেন জালনোটটি। তিনি জাল টাকার ব্যাপারে পুলিশের কাছে কোন অভিযোগ করনেনি হয়রানির ভয়ে। জালটাকার নোটগুলি তিনি আগুনে পুড়িয়ে ফেলেন।

২০১৫ সালের ১৯ মার্চ জেলার গাংনী উপজেলার মোহাম্মদপুর গ্রামে র‌্যব অভিযান চালিয়ে কামাল হোসেন ও তার স্ত্রী রঙ্গিলা খাতুনকে ২৫ হাজার টাকার জালনোট সহ গ্রেপ্তারা করে। জাল নোট আটকের ব্যপারে পরবর্তিতে তেমন কোন উল্লেখযোগ্য অভিযান পরিচালনা হতে দেখেনি জেলাবাশি। তবে জালনোটের বিড়ম্বনার শ্বিকার হচ্ছেন অনেকেই।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিমান্ত সংলগ্ন একজন গ্রামবাশী প্রথম আলোকে বলেন, সিমান্তে তার কাটার বেড়ার উপর দিয়ে প্রায় কিছু না কিছু ফেলতে দেখেন অনেকে। মাদক দ্রব্যর সাথে মাঝে সাঝে জালটাকার আদন প্রদান হয়ে থাকে। তবে মাদক ও জালটাকার ব্যাপারে সিমন্ত সংলগ্ন এলাকার বেশিরভাগ মানুষ অবগত রয়েছে। অহেতুক ঝামেলার ভয়ে কেই মুখ খুলতে চান না।

মেহেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, জালনোট পাওয়ার পরেই যদি পুলিশকে অবহিত করে তবে জালটাকার উৎস সম্পর্কে তারা তথ্য পেতে পেরে। এ ব্যপারে পুলিশকে সহযোগিতা করতে হবে। মাঠ পর্যায়ে পুলিশের গোয়েন্দারা কাজ করছে।

মন্তব্য করুন