শিরোনাম:

গাছ কাটা নিয়ে গাংনী বন বিভাগের লুকোচুরি

গাছ কাটা নিয়ে গাংনী বন বিভাগের লুকোচুরি
image_pdfimage_print

মেহেরপুর নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, ২৮ নভেম্বর ২০১৭:

মেহেরপুর গাংনী ঝিনেরপুল-কলোনী সড়কের গাছ কর্তন নিয়ে লুকোচুরির আশ্রয় নিয়েছেন বন বিভাগের কর্মকতা। এমন অভিযোগে দু’টি গাছ আটক দিয়েছে স্থানীয়রা। মালিকানা নিষ্পতি ছাড়াই গাছ কাটতে গিয়ে স্থানীয়দের বাধায় তা প- হয়ে। গাছের প্রকৃত মালিক কে ? তার সদুত্তোর দিতে পারছে না দায়িত্বশীল কর্তাব্যক্তিরা। ফলে গাছ কাটা নিয়ে ধোয়াশা কাটছে না।
জানা গেছে, হলপাড়া সামাজিক বনায়ন সমিতি ২০০৪-২০০৫ সালে ওই সড়কে আড়াই হাজার বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করে। চুক্তিনুযায়ী সম্প্রতি দরপত্রের মাধ্যমে গাছ বিক্রি করে গাংনী বন বিভাগ। কার্যাদেশ পাওয়া ঠিকাদারের লোকজন গত মাসে গাছ কেটে নিয়ে যায়। ঝিনেরপুল থেকে ওই সড়কের প্রবেশদ্বার থেকে কিছু গাছের মালিকানা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। মালিকানা জটিলতা সৃষ্টি হওয়া দু’টি বড় কড়–ই গাছ কাটে তারা। স্থানীয় লোকজন গাছের কাঠ নিয়ে যেতে ঠিকাদারের লোকজনকে বাধা দেয়। ফলে রাস্তার পাশে গাছ ফেলে রাখা হয়। প্রায় এক মাস পেরিয়ে গেলেও গাছের মালিকানার বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেয়নি বন বিভাগ।
হলপাড়া সামাজিক বনায়ন সমিতি সভাপতি খাইরুল ইসলাম বলেন, ঝিনেরপুল থেকে ওই সড়কে প্রবেশদ্বারে কয়েকটি মেহগনি গাছ ও কর্তন করা দু’টি কড়–ই গাছ আমাদের সমিতি বর্হিভূত গাছ। আমাদের বৃক্ষ রোপণের আগে একজন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওইর গাছের চারা রোপণ করেছিলেন।
গাংনী পৌরসভার ০২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মিজানুর রহমান বলেন, বন বিভাগের লোকজন বিশেষ আতাত করে দরপত্র বর্হিভূত গাছ কর্তন করেছে। এখবর পাওয়ার পর আমাদের লোকজন বাধা দেয়। তখন গাছ ফেলে রাখতে বলে বন বিভাগ। কার অনুমতিতে কিভাবে গাছ কাটা হয়েছে তার উত্তর পাচ্ছি না বন বিভাগ থেকে।
গাছ কাটার কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারের লোকজন জানায়, বন বিভাগের প্রতিনিধিরা যে গাছগুলো আমাদের দেখিয়ে দিয়েছেন তাই কাটা হয়েছে। তাদের নির্দেশনা মত আমরা কাজ করছি। কোনটি দরপত্রে আছে, আর কোনটি দরপত্রে নেই এসব আমরা জানিনা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গাংনী সামাজিক বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম বিষয়টি ভিন্নখাতে নেয়ার অপচেষ্টা করেন। দরপত্রের কাগজপত্র কুষ্টিয়া বিভাগীয় কার্যালয়ে জমা রয়েছে এমন অজুহাতে তা দেখাতে চাননি। শেষ পর্যন্ত আগামি ৪ ডিসেম্বর কাগজপত্র দেখানোর প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। কর্তন করে ফেলে রাখা দু’টি কড়–ইগাছ কিভাবে কাটা হয় তার সদুত্তোর মেলেনি।
এদিকে বিষয়টি অবহিত হয়ে গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মঙ্গলবার দুপুরে বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুরুল ইসলামকে তলব করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষ্ণপুদ পাল বলেন, ওই গাছ যদি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার রোপণকৃত হয়ে থাকে তাহলে এর মালিকানা অবশ্যই আমাদের। তাই কর্তনকৃত দু’টি কড়–ইগাছ উপজেলা পরিষদে জমা দেয়ার জন্য বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কিভাবে তিনি গাছ কাটার অনুমতি দিয়েছেন তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন