শিরোনাম:

অভিবাসনের ভবিষ্যত্ বদলে দাও। খাদ্য নিরাপত্তা ও গ্রামীন উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়াও।…..কৃষিবিদ ড. আখতারুজ্জামান।

অভিবাসনের ভবিষ্যত্ বদলে দাও। খাদ্য নিরাপত্তা ও গ্রামীন উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়াও।…..কৃষিবিদ ড. আখতারুজ্জামান।
image_pdfimage_print

মেহেরপুর নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, ১৬ অক্টোবর ২০১৭:

Dr Akhtar PP Photo১৬ অক্টোবর বিশ্ব খাদ্য দিবস। সোমবার বিশ্বের অনান্য দেশের মত বাংলাদেশেও উদযাপিত হচ্ছে বিশ্ব খাদ্য দিবস ২০১৭। অনান্য বছরের ন্যয় এবারে বিশ্ব খাদ্য দিবসের মূল প্রতিপাদ্য করা হয়েছে,“অভিবাসনের ভবিষ্যত্ বদলে দাও।খাদ্য নিরাপত্তা ও গ্রামীন উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়াও( Change the future of migration. Invest in food security and rural development)”।ইত্যবসরে কৃষি উত্পাদন ও খাদ্য সংগ্রহ ও সরবারাহের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সকল প্রতিষ্ঠান কে তাদের স্ব স্ব সংস্থা বা মন্ত্রণালয়ের পক্ষে দিনটি উদযাপনের জন্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

১৯৭৯ সালে বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচার অর্গানাইজেশন) ২০তম সাধারণ সভায় হাঙ্গেরির তৎকালীন খাদ্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. প্যাল রোমানি বিশ্বব্যাপী এই দিনটি উদযাপনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। ১৯৮১ সাল থেকে বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার প্রতিষ্ঠার দিনটিতে (১৬ অক্টোবর, ১৯৪৫) দারিদ্র ও ক্ষুধা নিবৃত্তির তরে বিভিন্ন বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশে এই দিনটি গুরুত্বের সঙ্গে পালিত হয়ে আসছে।
একটি দেশের নাগরিকগণের মৌলিক চাহিদাগুলোর মধ্যে খাদ্য অন্যতম। তাই সাম্প্রতিক সময়ে পৃথিবীর আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে চাষযোগ্য জমি কমতে শুরু করেছে। এই অবস্থায়, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, কৃত্রিম বনায়ন সৃজন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি সব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পৃথিবীর উন্নত এবং উন্নয়নশীল দেশ; বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যস্ত হয়ে পড়েছে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। পৃথিবী জুড়ে বৈষ্ণিক উষ্ণতা বৃদ্ধি সহ আরও কতক বিষয়ের পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এখন সব চাইতে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যের মধ্যে অন্যতম একটি। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণকে সামনে রেখেই মূলত: দিনটি পালন করা হয়ে থাকে।
প্রতি বছরের মত এ বছরও (২০১৭) জাতিসংঘের কৃষি ও খাদ্য সংস্থার ওয়েবসাইটে (http://www.fao.org) একটু ভিন্নধাঁচের মূল প্রতিপাদ্যের অবতারণা করা হয়েছে।
পৃথিবীতে এখন অভিবাসন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে; অভিবাসন হচ্ছে দেশের মধ্যে আবার এক দেশ থেকে অন্য দেশের মধ্যে এই অভিবাসন চলমান রয়েছে।নানান ধরনের দ্বন্দ্ব সংঘাত এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে যে কোনও সময়ের তুলনায় এখন অনেক বেশি মানুষ তাদের বাড়ী থেকে পালিয়ে অন্যত্র যেতে বাধ্য হচ্ছে। কিন্তু ক্ষুধা, দারিদ্র্য আবহাওয়া এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে সম্পর্কিত বিষয়গুলো অভিবাসন চ্যালেঞ্জের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মানুষের ব্যাপক অভিবাসন প্রক্রিয়া আজ বিশ্ব সম্প্রদায়ের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক অভিবাসী এখন উন্নয়নশীল দেশগুলিতে আসতে শুরু করেছে, যেখানে তাদের নিজস্ব সম্পদের পরিমাণ এমনিতেই কমতে শুরু করেছে। জাতিসংঘের আরেক তথ্য বিবরণী থেকে জানা যায় প্রতি বছর এক দেশ থেকে অন্য দেশে অভিবাসন অপেক্ষা স্ব স্ব দেশের মধ্যে ৭৬.৩ কোটি মানুষ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরিত হচ্ছে।
হত দরিদ্র মানুষদের এক তৃতীয়াংশ কৃষি বা অনান্য গ্রামীন কর্মের উপরে নির্ভর করে তাদের জীবন ও জীবিকা পরিচালনা করে থাকে।এমতাবস্থায় আমাদেরকে এখন এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে হবে যা গ্রামীণ জনগোষ্ঠিকে উৎসাহিত করে যে তাদের নিজের আবাসস্থলই তাদের জন্যে নিরাপদ, সেখানেও সুন্দর ও প্রাণবন্ত জীবনধারা পরিচালনার সুযোগ আছে। আর এসব কর্মকাণ্ড সৃষ্টি করতে পারলেই কেবল অভিবাসন প্রক্রিয়া কমতে পারে। গ্রামীণ উন্নয়নের মধ্যে এমন কিছু কাজের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে যা গ্রামীণ জনপদের মানুষেকে নিজ এলাকায় থেকে যেতে বাধ্য করে। এটা শুধু ফসল ভিত্তিক হলে চলবে না। মাঠ ফসল চাষের বাইরেও, উদ্যান ফসল চাষাবাদ ও উদ্যানতাত্বিক ব্যবসা সম্প্রসারণ, নার্সারী স্থাপন, দুগ্ধ খামার প্রতিষ্ঠা, হাঁস মুরগীর খামার স্থাপন, গরু মোটাতাজাকরণ, মৎস্য চাষ বৃদ্ধি ইত্যাকার বিষয়গুলো অন্তর্ভূক্ত করতে হবে । এসব আয় বর্ধনমূলক কর্মকাণ্ড যেমন খাদ্য নিরাপত্তা বাড়াবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে সাথে সাথে, প্রাণবন্ত জীবন ও জীবিকা নির্বাহ করতে সাহায্য করবে, সামাজিক সুরক্ষা প্রদান করবে, প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করবে এবং ও পরিবেশ দূষণ রোধে কাজ করবে।
বিশ্ব সম্প্রদায় পারে পল্লী উন্নয়নে বিনিয়োগ করে, সেখানে উন্নয়ন সহায়তার মাধ্যমে জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন করে অভিবাসন রোধ করতে পারে; সেইসাথে পারে ব্যাপক ও টেকসই উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে;যা প্রকারন্তরে অভিবাসন প্রক্রিয়াকে রোধ করতে সহায়তা করবে। জাতিসংঘ এই লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশের সরকার, সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বিদেশী সংস্থা সমূহের সাথে কাজ করে যাচ্ছে।
জাতিসংঘের এই কর্মযজ্ঞে আমাদের যার যেখানে যতটুক সুযোগ আছে সেটাকে কাজে লাগানোর জন্যে এই বিশ্ব খাদ্য দিবসে সবাইকে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা থেকে বিশেষভাবে আহবান জানানো হয়েছে।
……………………………………………
তথ্য সংকলনে:

কৃষিবিদ ড. আখতারুজ্জামান
(বিসিএস কৃষি ,৮ম ব্যাচ)
জেলা বীজ প্রত্যয়ন অফিসার
মেহেরপুর।
www.drakhtaruzzaman.info
১১.১০.২০১৭ খ্রি.

মন্তব্য করুন