শিরোনাম:

বলত্কার শেষে রূপার নির্মম হত্যাকাণ্ড,আশুলিয়ার নারীর ৩৫ টুকরা লাশ ও অব্যক্ত যৌন নিগ্রহের কবলে নারীরা! …….ড. আখতারুজ্জামান।

বলত্কার শেষে রূপার নির্মম হত্যাকাণ্ড,আশুলিয়ার নারীর ৩৫ টুকরা লাশ ও অব্যক্ত যৌন নিগ্রহের কবলে নারীরা! …….ড. আখতারুজ্জামান।
image_pdfimage_print

D. Akterতাবদ বিশ্বে জন্ম থেকে মৃত্যু অব্দি মেয়েদের তিনটা বিশেষ রূপ আমাদের চোখে পড়ে। জন্মের পরে সে থাকে কারু মেয়ে, এরপর যৌবন স্বামী গৃহে গমন করে জায়া হিসেবে, পরে মা হিসেবে একজন নারী পূর্ণতা পায়। প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে চলে আসা পুরুষতান্ত্রিক এই সমাজে দেশে দেশে নারী নানাভাবে নির্যাতিত হয়েছে এবং হচ্ছে। সমাজ উন্নয়নের সাথে সাথে সে অবস্থার কিছুটা উত্তরণ হলেও  এখনো পুরোপুরি  নিঃশেষ হয়ে যায়নি।

পুরুষতান্ত্রিক এই সমাজে প্রতিনিয়ত ধর্ষণ, যৌন হয়রানি, প্রতারণা, যৌতুকের বলি সহ হাটে মাঠে ঘাটে অফিস রেস্তোরায় নানাভাবে নারী এখনো সম্ভ্রমহানির শিকার হচ্ছে। এসব নিয়ে প্রতিনিয়ত কোন না ভাবে খবরের শিরোনাম হচ্ছে ইলেকট্রোনিক ও প্রিন্ট মিডিয়াগুলো।

হালে দেশে নারী নিগ্রহের দুটো রোমহর্ষক খবর আমাদের গোচরীভূত হয়েছে।
প্রথমত:বিগত ২৫ আগস্ট  চলন্ত বাসে গণধর্ষণের পর ঘাড় মটকে নির্মমভাবে হত্যা করে রূপার লাশ টাঙ্গাইলের মধুপুর বনে ফেলে চলে যেয়ে স্ব স্ব বাড়িতে স্বাভাবিক থাকে ধর্ষক দলের সদস্যরা। ধর্ষকরা সবাই বাসের হেলপার, ড্রাইভার ও সুপারভাইজার। রূপার কোন আকুল আর্তি ধর্ষকদের মন কাড়েনি। এরা এদের আদম নেশা চরিতার্থ করে মেয়েটিকে নির্মমভাবে হত্যা করে!

দ্বিতীয়ত: এই ঘটনার ঠিক এক সপ্তাহ বাদে বিগত ০১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার রাতে ঢাকাস্থ  আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার প্রবাসী মাসুদ মিয়ার ভাড়া বাড়িতে একটি ড্রামের ভেতর থেকে একজন নারীর ৩৫ টুকরা লাশ উদ্ধার করে আশুলিয়া থানা পুলিশ। ঐ ঘরে স্বামী-স্ত্রী দুইজন বাস করতেন। স্ত্রীকে হত্যার পর স্বামী পালিয়ে গেছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। 

সাম্প্রতিক এ দুটো ঘটনা নারীর উপরের অত্যাচার ও নির্যাতনের চরম নিদর্শন!

আমাদের দেশে নারীর উপরে অসংখ্য যৌন নিগ্রহের ঘটনা নিত্য নৈমিত্তিক । যতটুকু পত্রিকার শিরোনাম হচ্ছে প্রকৃত ঘটনা তার থেকে অনেক বেশি, কোন সন্দেহ নেই।

ঘটনা ঘটার পরে সেটা কোনভাবে প্রকাশিত হলে পত্র পত্রিকা এটা নিয়ে কিছুদিন সরব ও সোচ্চার থাকে, এরপরে আবার যা তাই। সব ঝিমিয়ে পড়ে। এসব ঘটনার পরে সহসা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির তেমন কোন নজির আমরা দেখতে পাচ্ছি না। বিচারের বাণী যেন সেই আপ্তবাক্যের মতই নিভৃতে কেঁদে চলেছে। এ ব্যাপারে আমাদের আমজনতার মুখে কুলুপ আঁটা রয়েছে, কারন কিছু বললে নিশ্চিত আদালত অবমাননা,যার সাজা অনেক।ফলে সহসা এটা থেকে আমাদের মুক্তি মিলছে বলে কোন আভাষের আভা দেখতে পাচ্ছি না।

দৃশ্যমান এবং দৃষ্টান্তমূলক নারী নিগ্রহের খবর এবং সাজা  আমরা দেখেছিলাম, দিনাজপুরের ইয়াসমিন হত্যার ক্ষেত্রে, তবে সে বিচার শেষ করে সাজা কার্যকর করতে সময় লেগেছিল ৭ বছরের অধিক। আমরা বেশ মনে করতে পারি: ১৪ বছরের ইয়াসমিন আক্তার ঢাকায় একজন গৃহকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিল। ১৯৯৫ সালের ২৪ আগস্ট সে ঢাকা থেকে দিনাজপুরের দশমাইল এলাকায় নিজ বাড়িতে ফিরছিল। পথিমধ্যে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা তাকে পুলিশ ভ্যানে করে গন্তব্যস্থলে পৌঁছে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। এরপর তিন পুলিশ সদস্য তাকে গণধর্ষণ শেষে হত্যা করে। পরে এ খবর দশ দিগন্তে ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাধারণ আমজনতা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। পুলিশ জনতার সংঘর্ষে সেদিন ৭ জন মানুষকে জীবন দিতে হয়েছিল; আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেছিল শত শত মানুষ। চূড়ান্ত বিচারে, ২০০৪ সালের সেপ্টেম্বরে রংপুর জেলা কারাগারের অভ্যন্তরে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় পুলিশের এএসআই মইনুল, কনস্টেবল আবদুস সাত্তার ও পুলিশের পিকআপ ভ্যান চালক অমৃত লাল বর্মণের। সে বিচার দেরিতে হলেও সরকারি আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তিন সদস্যদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে সেদিন সাধারণ মানুষ ভীষণ খুশি হয়েছিল। 

এরপর আমাদের দেশে নারী নিগ্রহের আরো অনেক ঘটনা ঘটলে সেসব বিষয়ে দৃশ্যমান কোন খবর আর আমাদের নজরে আসেননি; ফলে আমাদের সামনের বিস্তীর্ণ পথকে বেশ তমসাচ্ছন্ন মনে হচ্ছে।

পত্রিকান্তরের খবরানুসারে:
★ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনুকে ২০.০৩.২০১৬ তারিখ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের সুরক্ষিত এলাকার মধ্যে ধর্ষণ শেষে খুন করা হয়েছিল, যার আজও কোন কূল কিনারা হয়নি। কেন হয়নি সে এক নিরন্তর জিজ্ঞাসা। এক্ষেত্রে মিডিয়া সোচ্চার হয়েও কিছু করতে পারেনি। কারণ এখানে ধর্ষক বা ধর্ষক গংদের কালো হাতের থাবা অনেকদুর অব্দি বিস্তৃত!!

★ ০৫.০১.২০১৬ তারিখে গভীর রাতে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের নান্দাইল চৌরাস্তায় একটি যাত্রীবাহী বাসের ভেতর ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ধর্ষণের শিকার নারী বাদী হয়ে নান্দাইল মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। সেটারও কোন চূড়ান্ত ফলাফল আসেনি।

★২০১৬ সালে বরিশালের নথুল্লাবাদে সেবা পরিবহনের একটি বাসে কুয়াকাটা থেকে আসা দুই বোনকে ধর্ষণ করেন গাড়িচালক ও তাঁর সহকারীরা। এ ঘটনায় বরিশাল মহানগর পুলিশের বিমানবন্দর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। কিন্তু চূড়ান্ত কোন ফল আসেনি

★২০১৫ সালের মে মাসে কর্মক্ষেত্র থেকে ঘরে ফেরার পথে রাজধানীতে গণধর্ষণের শিকার হন এক গারো তরুণী (২২)। কুড়িল বাসস্ট্যান্ড থেকে তাঁকে জোর করে মাইক্রোবাসে তুলে ধর্ষণ করে একদল দুর্বৃত্ত। এই তরুণী যমুনা ফিউচার পার্কে একটি পোশাকের দোকানে কাজ করতেন। সে ঘটনার পর পার হয়েছে আড়াই বছর। দুই আসামি কারাগারে। বিচার চলছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার সাক্ষ্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

★২০১৫ সালের মে মাসে গাজীপুরের কালীগঞ্জে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এক নারী শ্রমিক নৌকায় ধর্ষণের শিকার হয় নৌকার দুই মাঝির দ্বারা। এটা নিয়েও মামলা হয়েছে, কোন খবর নেই। 

★২০১৩ সালে মানিকগঞ্জে চলন্ত বাসে ধর্ষণের শিকার হন এক পোশাক শ্রমিক। এ মামলায় এক আসামি কারাগারে থাকলেও আরেক  আসামি দিপু মিয়া এক বছর ধরে জামিনে থেকে দিব্যি বাস চালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

এই যদি হয় ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের মত স্পর্শকাতর বিষয়ের বিচারিক কার্যক্রম গতিময়তা তাহলে তো বলতেই হয় অদ্ভূত এক উটের পিঠে চড়ে চলছে আমার প্রিয় স্বদেশ! না আমরা জানিনে এসব নিয়ে কি বলবো আর কি বলবো না!!

এতো গেল প্রকাশ্যে সংগঠিত যৌন নিগ্রহের হালফিল বিচারিক ব্যবস্থার ধরণ। এর চেয়ে অপ্রকাশিত এবং অব্যক্ত যৌন নিপীড়নের উন্মত্ততা আরো বেশি ও ভয়াবহ!

হাল আমলে আমাদের খোলা দুয়ারের সামনে কোন পরিচিত অপরিচিত মেয়ে দেখলেই আমাদের জিহবা দিয়ে লালা ঝরতে থাকে আর সেই লালায় সিক্ত করে বাহুল্য একটা বায়বীয় বিনোদন নিতে চেষ্টা করি আমরা। ব্যাপারটা একটু খুলে বলি:
শিক্ষা ও কর্মপোলক্ষে আমাদের দেশে এখন বিভিন্ন বয়সী মেয়েরা  বেশি বা স্বল্প দুরত্ব বসবাস করে বাসে ট্রেনে  বাইকের সাহায্য বাসা ও কর্মস্থল বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একাকী যাতায়াত করেন। কিন্তু পিলসুজের পাদপৃষ্ঠে অন্ধকারের ন্যয় যানবাহনে পাশাপাশি বসে জার্নি করার সময় সূক্ষ যৌন নিগ্রহের শিকার হচ্ছে সব বয়সী মেয়েরা। বাসে ও ট্রেনে চলার সময় অনেক পুরুষ যাত্রী কৌশলে পাশে বসা নারী যাত্রীর দেহবল্লরীর স্পর্শকাতর অংশে তাদের ছোঁয়া লাগাতে চেষ্টিত থাকে। আবার কোন কোন পুরুষ অহেতুক খাতির পাতিয়ে মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে একটা কূটজালে মেয়েদের জড়িয়ে তাদেরকে উৎপীড়নের চেষ্টা করে। প্রাপ্ত খবরানুসারে এ কাতারে এগিয়ে রয়েছে চল্লিশোর্ধ বুড়ো ভামদের মত পুত পবিত্র চরিত্রের পুঙ্গবেরা। ভূক্তভোগী নারীদের  পারস্পারিক  আলাপচারিতায় চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

এহেন অভিনব আর সূক্ষ মানসিক হয়রানির বেশিরভাগ খবরই অব্যক্ত ও অপ্রকাশিত থাকছে। মাঝে মধ্যে একটু আধটু প্রতিবাদ হলেও মান সম্মানের ভয়ে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মেয়েরা বিষয়গুলো বেমালুম চেপে যায়। লোকলজ্জার নিচে চাপা পড়ে থাকছে নারীর এই অব্যক্ত আর্তনাদ । এহেন সূক্ষ শ্লীলতাহানির জন্যে নারী অসম্মানিত অপমানিত ও লাঞ্চিত হচ্ছেন প্রকারন্তরে আমরা পুরুষেরাও অসম্মানিত হচ্ছি, আমাদের আত্মশ্লাঘা ভারি হচ্ছে।  এতদসত্বেও “সোনার আংটি” বাঁকাও ভাল এসব বাগাড়ম্বর করে পুরুষ তার পৌরুষত্বকে জাহির করে যাচ্ছে দিনের পর দিন।
এসব তথাকথিত পৌরুষত্ব জাহির আর বায়বীয় যৌন নিগ্রহের মধ্যে দিয়ে এসব নর বানরেরা এমন কী বিনোদন পায়, জানিনে। বস্তুত: পুরুষ হিসেবে একজন নারীকে ঘরে বাইরে যথাযথভাবে সম্মানিত করাই তো প্রকৃত পৌরুষত্বের লক্ষণ।

জৈবিক আনন্দ একটা মনোদৈহিক বিনোদন, যেটি পূর্ণতা পায় দুজন বিপরিত লিঙ্গের নরনারীর সম এবং সক্রিয় অংশগ্রহনে। আমি বুঝিনে বায়বীয় বিনোদন প্রচেষ্টায় রত এসব মানুষগুলো এহেন অপকর্ম করে কতটা মনোগত বিনোদন পায়। এই কাজের পালের গোদারা এসব আকাম করতে যেয়ে গোটা পুরুষজাতির মুখে এঁকে দিচ্ছেন কলঙ্কের তিলক।

কার্যত: জোরপূর্বক নারীর শ্লীলতাহানি ও বলৎকারের বিষয়টি পুরাটাই মনোবৈকল্য বা মানসিক বিকৃতি; আর এ ধরনের মনোবৈকল্যের সংখ্যাহার যেন ক্রমাগত বেড়েই চলেছে।

সময় এসেছে এসব নর পশুদেরকে ধিক্কার জানানোর; মেয়েদের চলার পথকে কন্টকাকীর্ন নয় কুসুমাস্তীর্ণ  করার। আমরা বেশ দেখতে পাচ্ছি, দেশ জাতি ও সমাজ গঠনে আমাদের দেশের মেয়েরা এখন অনেক এগিয়ে।
“যে রাঁধে সে চুলও বাঁধে” এমন আপ্তবাক্যকে সত্য প্রমাণ করে আমাদের মেয়েরা এখন সাফল্যের অনেক শীর্ষ আসীন হয়েছেন এবং হচ্ছেন। তাঁদের উর্ধগতির উল্লম্ফন অপার অপরিসীম। তারা আর ঘরের কোণে বদ্ধ নেই, জগৎটাকে দেখে সেটা জয় করে পুরুষ জাতির মুখে কলঙ্কের কালো টিপ বসাতে শুরু করেছে। উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি, পরিক্ষার রেজাল্ট ও চাকুরি প্রাপ্তির থেকে মেয়েদের উত্তরণ অসামান্য। শত অসম্মান নিগ্রহ ও লাঞ্চনাকে পেছন ফেলে তারা সাফল্যের সোপান বেয়ে তরতর করে উপরে  উঠে যাচ্ছে।
আটপৌরে শাড়ি পরে ঘরকন্যা পেতে গৃহকোণে চার দেয়ালের মধ্যে অন্তরীন থাকার সময় মেয়েরা অনেক আগেই শেষ করেছে। জলে স্থলে অন্তরীক্ষে দেশে বিদেশে সর্বত্র আজ আমাদের মেয়েদের দীপ্ত পদচারণা ও অসামান্য সাফল্যে মুখরিত। রাজনীতি থেকে শুরু করে শক্তিমত্ত কাজেও মেয়েদের সফলতা গগনচুম্বী!
এমনি হাজারো সফলতা রয়েছে আমাদের বঙ্গ ললনাদের। সুতরাং আসুন অবলা আর দুর্বল ভেবে তাদেরকে অসম্মান করা থেকে বিরত থাকি। তারা তো আমাদের প্রতিপক্ষ নন, পরিপূরক।
আমরা কেন ভুলে যায়, আমার আপনার দ্বারা যে মেয়েটি নিগৃহীত হলো, একইভাবে তো নিগৃহীত হতে পারে আমার আপনার মা বোন বা নিকটাত্মীয় কোন নারী। এ অবস্থা কখনো কাঙ্খিত নয়, এ অবস্থার প্রতিকার প্রতিবিধানের জন্যে আমাদেরকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। সবকিছু আইন করে করা যাবে না। আবার আইন থাকলেও হবে না, সেটার যথাযথ সময়োচিত প্রয়োগ থাকতে হবে। বর্তমানে ধর্ষকের বিচারের যে মহড়া চলছে বছরের পর বছর এবং যেভাবে ধর্ষিতাকে কাঁঠগড়ায় ধর্ষকের আইনজীবীর জেরার মুখোমুখি হতে হয় এবং ধর্ষিত মেয়েটির পূর্বাপর চরিত্রের চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয়, তাতে ধর্ষিতা এবং তার অভিভাবকের কাছে বিচারের বিষয়টিকে তখন ভিক্ষে চাইনে মাগো কুকুর ঠেকানোর মতই মনে হয়। আবার ধর্ষিতার মেডিক্যাল টেস্টের বিষয়টিও সুখকরনকিছু নয়! প্রতিটি স্টেজে ধর্ষিতা মেয়েটিকে মানসিক হয়রানিতে পড়তে হয়, বিয়ের বাজারে সে হয়ে যায় মূল্যহীন। সবশেষে বিষয়টি নিষ্পত্তি হতে কেটে যায় বহু বহু বছর; সুতরাং এ অবস্থা কাম্য হতে পারে না।
এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্যে এ অধমের স্থুল মস্তিষ্কের কিছু কথামালা আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চাইছি মাত্র:

★এসিড নিক্ষেপের মত ধর্ষকের সাজাও তীব্রতা ভেদে মৃত্যুদণ্ড করতে হবে। বাঙালীদের যত বাহাদুরি থাক না কেন, এরা কিন্তু ডাণ্ডা খেয়ে বেশ ঠাণ্ডা থাকে। তাই ধর্ষণের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করে কিছু ধর্ষকের সাজা দিতে হবে প্রকাশ্য জনসমক্ষে শিরচ্ছেদ করে বা বুলেট বিদ্ধ করে এবং এই বিষয়টির ব্যাপক প্রচারণা করতে হবে রেডিও টিভিতে, যেন সম্ভাব্য ধর্ষকদের প্লীহা চমকিয়ে পায়জামা গরম হতে শুরু করে!

★সকল বিচারকাজ সম্পন্ন করতে হবে ক্যামেরা ট্রায়লের মাধ্যমে একদম চুপিসারে!

★প্রচারণ চালাতে হবে যেন ধর্ষকের পক্ষে কোন আইনজীবী না দাঁড়ায়।

★ সূক্ষ যৌন হয়রানির ক্ষেত্রে যৌন নিপীড়কের চিরদিনের মত ইন্দোনেশিয়ার আদলে নপুংসক করে দিতে হবে এবং কপাল পুড়িয়ে ছ্যাকা দিয়ে একটা বড় কলংকের টিপ বসিয়ে দিতে হবে। যেন এরা চলতে ফিরতে এদের সাজার ভয়াবহতা অন্যের চোখে দৃশ্যমান হয়।

★ ধর্ষকের শাস্তি কি  এবং কি সাজা হয়েছে সেসবের প্রচার প্রচারণা বাধ্যতামূলক করতে হবে সব ধরনের যানবাহনে। আবার যাত্রীরা যেন তার পাশে বসা মহিলা যাত্রীদের সাথে শালীন আচরণ করে এমন প্রচারণাও চালাতে হবে, ব্যাপকহারে। যানবাহনের সাথে জড়িত এইসব স্বল্প শিক্ষিত মানুষগুলো সহ সাধারণ মানুষেরা হাটে মাঠে ঘাটে সর্বত্র এসব সাজার কথা জেনে বুঝে মনে মনে প্রমাদ গুণতে থাকবে অনাগত ধর্ষণ করার ক্ষেত্রে। সবচে বড় কথা এরা যখন জানবে কোনমত ধরা পড়লে চিরদিনের মত পুরুষত্ব হারাতে  হবে আর কপালে কলংকের তিলক লাগবে তখন এটা ম্যাজিক ড্রাগের মত কাজ করবে বলে আমার বিশ্বাস।

★ নৈতিকতার ব্যাপারে প্রচার প্রচারণা চালাতে হবে। আমরা সবাই যদি আমাদের সবার নৈতিকতাকে একটু ফাইন টিউনিং করে এ ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারি তাহলে দেশ জাতি ও সমাজ অনেকদুর  এগিয়ে যাবে। বস্তুত: দেশ জাতি সমাজ ও বিশ্ব সংসার সৃষ্টির অপার বিস্ময়ের উপরে ভর করে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে সৃষ্টি হয়েছে প্রতিটি প্রানীর জৈব বিনোদন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তৈরির বিপরিত লিঙ্গ বিশিষ্ট সঙ্গীর। তাই আসুন আমরা আমাদের সহজাত প্রবৃত্তির সেই চির সঙ্গীনির সাথে পরিশীলিত ব্যবহার করতে চেষ্টা করি। আমরা তো হিংস্র হায়েনা বা কোন জন্তু জানোয়ার নই, তাহলে আমাদের আচরণে কেন থাকবে পাশবিকতা, পৈশাচিকতা আর বর্বরতা। ইউরোপ আমেরিকার মত উন্নত বিশ্বে সক্ষম নর নারীদের জন্য অবাধ যৌনাচারের অনুমোদন থাকলেও সেখানে যৌন নিগ্রহকে বড় ধরনের শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

 পুরুষের জীবনে সবচে দুঃখজনক এবং দুর্ভাগ্যজনক অধ্যায় হলো, যে পুরুষ নারীকে ধর্ষণ করে, তাকে উত্যক্ত করে, তার শ্লীলতাহানি করে তেমন একজন নারীর গর্ভেই কিন্তু জন্মলাভ করেছে ঐ নারীলিপ্সু পুরুষ। এই নির্মম সত্যটি মর্মে ধারণ করলেও এমন সমস্যা কমতে পারে। সর্বোপরি সবার মনে রাখা দরকার যৌবনের উচ্ছলতা আর উন্মত্ততা কচুর পানির মত শেষ হয়ে যায় ক্ষণিকের তরে!! ভাগ্য বিড়ম্বিত হলে সেটা শেষ হতে পারে যখন তখন,তবে কেন এই ক্ষণিকের আস্ফালন!!

 তাই আসুন আমরা সবাই যে যার অবস্থান থেকে মায়ের জাতি হিসেবে সর্বাবস্থায় নারীকে সম্মানিত করে নিজেও সম্মানিত বোধ করি। হাটে মাঠে ঘাটে বাগে পেয়ে মেয়েদেরকে অসম্মান করে নিজের সম্মান কখনো বাড়ে না বরং তাদেরকে সম্মান দিলে নিজের সম্মানের পাল্লাটা ভারি হয়। এমন কথাটা আমাদের অন্তরাত্মার সাথে ধারণ করতে পারলে এ সমস্যার অনেকখানি সমাধান হবে।

সেইসাথে আত্মজা বোন ভগ্নিদের প্রতি অনুরোধ রাখবো তোমরা তোমাদের পোশাকে শালীনতা বজায় রেখে, পরিশীলিত কথনে, মার্জিত আচরণে ঘরের বাইরে বিচরণ করো, কর্মক্ষেত্রের কর্মে নিয়োজিত থেকো; প্রয়োজনে অবলা হয়ে থেকো না। প্রতিবাদ করে এই অপকর্মকে প্রতিরোধ ও প্রতিকারে সহায়তা করো। মনে রাখবে তোমার প্রতিবাদে পাশের অনেক সজ্জ্বন পুরুষকে তোমার পক্ষে পাবে। সেইসাথে তোমরা একাকী চলতে ফিরেত কৌশলী হয়ে চলবে। সামনে কখন কোথায় কি ধরনের বিপদের মুখোমুখি হতে পারো ,সে ব্যাপারে চোখ কান খোলা রাখতে হবে। রাতে একাকী চলার ব্যাপারে বেশি মাত্রায় সতর্ক হবে।

এতকিছুর পরেও আমরা হলফ করে বলতে পারি না যে, এই সমাজে নারী কর্তৃক কিছু পুরুষ বিভিন্নভাবে নির্যাতিত ও নিগৃহীত  হচ্ছে না। সংখ্যায় কম হলেও এ ব্যাপারে কার্যকর আইন প্রণয়নের আবশ্যকতা রয়েছে বৈ কি!
**************************************
লেখক: কৃষিবিদ ড. আখতারুজ্জামান
(বিসিএস কৃষি, ৮ম ব্যাচ)
জেলা বীজ প্রত্যয়ন অফিসার
মেহেরপুর।

মন্তব্য করুন