শিরোনাম:

ভাটপাড়া ডিসি ইকোপার্ক ও মুজিবনগরে দর্শনার্থীদের ঢল

ভাটপাড়া ডিসি ইকোপার্ক ও মুজিবনগরে দর্শনার্থীদের ঢল
image_pdfimage_print

মেহেরপুর নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, ০৫সেপ্টেম্বর ২০১৭:

ঈদ উত্সবে মেহেরপুর জেলার দর্শনীয় স্থানগুলো দর্শনার্থীদের ভিড়ে মুখরিত। পরিবার-স্বজনদের নিয়ে ঈদ আনন্দ উপভোগ করছেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। প্রথম সরকারের স্মৃতি বিজড়িত ঐতিহাসিক মুজিবনগর কমপ্লেক্স, আমঝুপি নীলকুঠির পাশাপাশি দর্শনার্থীদের কাছে নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে নির্মানাধী ভাটপাড়া জেলা প্রশাসক (ডিসি) ইকো পার্ক। ঈদুল ফিতরের সময়ের চেয়ে বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে মুখরিত ডিসি ইকো পার্ক।
Park-3ঈদের পরদিন শনিবার সকাল থেকেই দর্শনীয় কেন্দ্রগুলোতে জেলা ও পাশর্^বর্তী জেলার মানুষের উপস্থিতি শুরু হয়। পরিবারের বিভিন্ন বয়সী সদস্যদের নিয়ে সময় পার করছেন তাঁরা। সারা বছরের কর্মমূখর পরিবেশ থেকে ভিন্ন পরিবেশ উপভোগ করাই একমাত্র উদ্দেশ্যে। পাশাপাশি ইতিহাস সম্বলিত বিভিন্ন স্থাপনা দেখে বেজায় খুশি শিশুরা। এখানে যান্ত্রিক কোলাহাল আর শহর জীবনের ব্যস্ততা না থাকায় মনের পালে হাওয়া লেগেছে তরুণ-তরুণীদের।
ভাটপাড়া ডিসি ইকোপার্ক:
বিট্রিশ আমলে গাংনী শহর থেকে কয়েক কিলোমিটার উত্তর-পুর্বে কাজলা নদীর তীরঘেষে ভাটপাড়া নীল কুঠি স্থাপিত হয়। সেখানে রয়েছে ইংরেজদের কাচারী বাড়ি। কিন্তু সংরক্ষেণর অভাবে তা বিলিনের পথে। গত বছর জেলা প্রশাসক পরিমল সিংহ সেখানে পার্ক তৈরীর পরিকল্পনা হাতে নেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের স্বল্প সহযোগিতা নিয়ে শুরু হয় পার্কটির দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা নির্মানের কাজ।
নির্মানাধীন পার্কটিতে রয়েছে পশু-পাখির ভাষকর্য। দৃষ্টিনন্দন বাগান, পুকুর, শাপলা, ফুটওয়্যার, ফুলের বাগান ও দেশীয় গাছ সম্মৃদ্ধ বাগান। ইংরেজদের Park-2শোষণের স্মৃতি চিহ্ন বিজড়িত নীলকুঠির বিভিন্ন স্থাপনা সংস্কারে কাজও চলছে । পশ্চিমে বয়ে চলা এক সময়ের প্রাণ চঞ্চল কাজলা নদী। পুনর্খনন ও দখলদারদের দৌরাত্বে মৃতপ্রায় নদীটি। এর কিছু অংশ পুনর্খনন করা হয়েছে। এতেই চলছে ইঞ্জিন চালিত নৌকা। যা দর্শনার্থীদের বিনোদনের অন্যমাত্রা নিয়ে এসেছে।
মেহেরপুর জেলা প্রশাসক পরিমল সিংহ বলেন, নির্মানাধীন অবস্থায় রয়েছে দৃষ্টিনন্দন গেট, পানির ফোয়ারা, লেক ও লেকের উপরে ব্রিজ, ওভার ব্রিজ, শিশুপার্ক। আগামি পরিকল্পনায় রয়েছে মুক্তিযুদ্ধু ও ইংরেজ শাসনামলের স্মৃতি সৌধ, বসার স্থান, আবাসিক হোটেলসহ বিভিন্ন স্থাপনা।
ডিসি ইকো পার্কের নকশাকার গাংনী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা দিলিপ কুমার সেন বলেন, ১০০ বিঘা জমির উপর পার্কটি স্থাপিত হচ্ছে। কাজলা নদীর দু’পাড়ে দৃষ্টিনন্দন বাগানের মধ্যে বসার স্থান ও পায়ে হাটার পথ নির্মান করা হবে।
গত পয়লা বৈশাখ থেকে ভাটপাড়া ডিসি ইকোপার্কটিতে দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় শুরু হয়। ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা উপলক্ষে বিভিন্ন এলাকার দর্শনার্থীরা আসছেন।
Park-4দর্শনার্থী সদর উপজেলার বর্শিবাড়ীয়া গ্রামের আব্বাস আলী বলেন, ভাটপাড়া নীলকুঠিতে ১০/১২ বছর আগে দেখতে আসতাম। কিন্তু সংরক্ষণের অভাবে দর্শনার্থী বিমুখ পড়ে পড়েন। এখন পার্ক নির্মানের ফলে নির্মল পরিবেশে ঘুরতে পারছি। পরিবার নিয়ে বেড়ানোর মত একটি ভাল জায়গা পেয়েছি।
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলা শহর থেকে আসা ব্যবসায়ী আব্দুল হালিম বলেন, পার্কটি নির্মান কাজ শেষ হলে এ অঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থান হবে। যেটুকু নির্মান কাজ শেষ হয়ে তা অবশ্যই আশা জাগাচ্ছে।
মুজিবনগর কমপ্লেক্স:
বাংলাদেশের স্বাধীনতার সূর্য উদয় ভূমি হিসেবে ঐতিহাসিক খ্যাতি রয়েছে মুজিবনগর কমপ্লেক্সের। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল প্রথম সরকারের শপথের স্থানটিকে ঘিরে নির্মান করা হয় স্মৃতি সৌধ। ছায়া সুনিবিড় মনোমুদ্ধকর বিশার আমের বাগান। পুর্ব দিকে মুক্তিযুদ্ধের সেক্টরভিক্তিক বিশাল মানচিত্র ও মানচিত্রের সামনে মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক মুর‌্যাল।
Mujibnagorচুয়াডাঙ্গার আলোকদিয়ার শিবলি হোসেন ও তার বন্ধু আনোয়ার হোসেন বলেন, মুজিবনগরের সঙ্গে বাঙালির নাড়ির টান রয়েছে। এখানো বেড়ানোর মত ভাল পরিবেশ পেয়েছি। অপরদিকে মুক্তিযুদ্ধ ভিক্তিক স্থাপনা দেখে একাত্তর সম্পর্কে ধারনা পেয়েছি। একাত্তরের বাংলাদেশ দেখতে ছাত্রছাত্রীদের এখানো আসা প্রয়োজন বলে মনে করেন তাঁরা।
এদিকে নির্বিঘেœ ঈদ বিনোদনের জন্য পুলিশ টহল বৃদ্ধি করেছে জেলা পুলিশ। দর্শনীয় স্থানগুলো ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে পুলিশ প্রহরা রয়েছে। অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি এড়াতে আরো কয়েকদিন পুলিশের বাড়তি এ নজরদারি অব্যহত থাকবে বলে জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

মন্তব্য করুন